বাস্তবতা

৫ হাজার টাকার টিউশনি একটা সাধারন ছেলেকে ৫০-৭০ ভাগ কমিশন দিয়ে নিতে হয় ।

গার্ডিয়ান এই ছেলেগুলোকে মানুষ মনে করে না । মনে করে মাঠের কামলা । প্রথম মাস শেষ । মিডিয়া ফি দিয়ে টিউশনি নেয়া হয়ে গেছে । অথচ স্যালারির খবর নাই ।

ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র । বাপ মা তার থেকেও আধুনিক । টিচার থেকে শতভাগ বের করে নিতে বদ্ধপরিকর । দুইটা ঘন্টা পড়াতে হয় । ছাত্রের মা বসে থাকে ।

এদিকে টিউশন ধরিয়ে মিডিয়াও লাপাত্তা ।

মাস শেষে সাধারন ছেলেটা পড়ে গ্যাড়াকলে । একদিকে গার্ডিয়ানের কাছে টাকা চাওয়ার সংকোচ । অন্যদিকে মিডিয়াকে ফোন দিলে ধরে না ।

প্রথম মাস কেটে যায় । বেতন নাই । ছেলেটা বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করে চলে । প্রতিশ্রুতি দেয় দুই মাসের বেতন একসাথে পেলেই টাকা দিয়ে দেবো সব ।

দ্বিগুন উৎসাহে আরেকটু ডেডিকেশন দিয়ে টিউশনি করায় । আশা এই যে ,আন্টি হয়তো একটু বুঝবে । হয়তো টাকাটা দিয়ে দেবে ।

হিন্দি সিরিয়ালের ভিলেন মহিলা থেকেও খারাপ মহিলা টাকা আটকে রাখে । দেয় না কিছুই । জিজ্ঞেস করলে অজুহাত …

স্যার …এই সমস্যা …সেই সমস্যা …বুঝতেই তো পারছেন । আপনার ছাত্র একটু ডেডিকেশন নিয়ে পড়াবেন !! তাই না !! টাকা তো আর চলে যাচ্ছে না ।

তিন মাস যায় । এইবার টাকা আসে । তবে অর্ধেকেরও কম । মাত্র ৫ হাজার টাকা । বাকি টাকার খবর নাই । \

আন্টি …বাকি টাকা কই ?

বাবা …এরকম টাকা টাকা করলে তো হবে না তাই না ? টিউশন করাতে হয় নিঃসার্থ ভাবে !!

এরকম টিউশন করাতে গিয়ে মেসের বেতন বাকি । দোকানের বকেয়া অনেক । খেতে গেলেও লজ্জা লাগে । বন্ধুদের দেনা বাকি । আমরা ভিলেন মহিলা দেখি নাই । বেতন আটকে দেয়া আন্টি দেখেছি ।

আমরা ক্রিমিনাল দেখি নাই । টিউশন মিডিয়া দেখেছি ।

একটা সাধারন ছেলের টাকার “”প্রয়োজন “” নিয়ে মিডিয়া আর গার্ডিয়ান গ্রুপের এই যৌথ ফুটবল খেলায় ,ছেলেটা সবসময় খেলা ছেড়ে চলে আসে । পারা সম্ভব না এদের সাথে !!

গল্প শুনি এভাবে …

ভাই … চার মাসের ১২ হাজার টাকা বাকি । ছাত্রের বাবা হজ করে এসেছেন 😛 এক টাকাও পাই নি আমি ।

ভাই … দুই মাসের বেতনের অর্ধেকটা দিয়েছে । বাকীটা দেয় নাই ।

ক্যাম্পাসগুলোর মারদাঙ্গা টাইপের গুন্ডা ছেলেদের পেছনে তাই এরকম বঞ্চিত হওয়া সাধারন ছাত্রদের সংখ্যাও একেবারে কম নয় । অনেক বেশি । আমাদের এগিয়ে চলার গল্পে এরকম বঞ্চিত হওয়ার ট্রাজেডিটা না থাকলে আমরা এতোটা এগিয়ে যেতে পারতাম না ।

আমরা পারতাম না কমান্ডো স্টাইলে মাত্র ৫০ টাকায় মাসের শেষ দশ দিন পার করতে !!

আমরা জানতাম না শুধু মুখের কথায় কনভিন্স করে একটা দোকানে দিনের পর দিন বাকি খাওয়া দাওয়া করতে !!

বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলো তাই অলিখিতভাবে কিছু কমান্ডোই তৈরি করে ,যারা ফাকা পকেটেও বাস চড়তে পারে । আবার বিনয় দেখিয়ে সিটও ছাড়তে পারে ।

যারা ক্ষেপে গেলে বাস ভাঙতেও পারে । আবার ছাত্রের কথা চিন্তা করে টিউশনের টাকা না পেয়েও কাটিয়ে দিতে পারে

Leave a comment